টি-টোয়েন্টিতে অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড গড়ে মাত্র ৮৫ রানে চ্যাম্পিয়ন গায়ানা

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ক্রিকেটে ৮৫ রানে অলআউট হওয়া মানেই প্রায় নিশ্চিত হার। কিন্তু সেই ধারণাই বদলে দিল গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। গ্লোবাল সুপার লিগের ফাইনালে আগে ব্যাট করে মাত্র ৮৫ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পরও দুর্দান্ত বোলিংয়ে সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসকে ৭৯ রানে অলআউট করে শিরোপা জিতে নিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে গড়েছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড।

ফাইনালে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে গায়ানা। ইনিংসের নবম ওভারের আগেই ৮ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে জমা হয় মাত্র ২৯ রান। দলের শীর্ষ ব্যাটার জনসন চার্লস, শিমরন হেটমায়ার, রহমানউল্লাহ গুরবাজ, মোহাম্মদ নবী ও মোহাম্মদ হারিস কেউই দায়িত্বশীল ইনিংস খেলতে পারেননি।

প্রতিপক্ষের হয়ে অসাধারণ বোলিং করেন পিটার সিডল। চার ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে তিন উইকেট শিকার করে গায়ানার ব্যাটিং লাইনআপকে ছিন্নভিন্ন করে দেন তিনি। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচ তখন একতরফা হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতই দিচ্ছিল।

তবে ইনিংসের শেষদিকে লড়াই করেন নিচের সারির ব্যাটাররা। ডোয়েন প্রিটোরিয়াস করেন ১৭ রান, ম্যাথিউ ফোর্ড খেলেন ২৮ রানের মূল্যবান ইনিংস এবং ইমরান তাহির যোগ করেন ১১ রান। তাদের চেষ্টাতেই কোনোমতে ৮৫ রানে পৌঁছায় গায়ানা।

সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা মোটামুটি ভালোই ছিল সান ফ্রান্সিসকোর। তরুণ অস্ট্রেলীয় ব্যাটার অলিভার পিকের ৩১ রানে দলটি জয়ের দিকেই এগোচ্ছিল। একসময় তিন উইকেটে ৫০ রান তুলে ফেলেছিল তারা।

কিন্তু সেখান থেকেই নাটকীয়ভাবে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৩ রান থেকে মাত্র ৫৮ রানের মধ্যে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ধসে পড়ে সান ফ্রান্সিসকোর ব্যাটিং। গায়ানার হয়ে মোহাম্মদ নবী নেন তিনটি এবং ইমরান তাহির শিকার করেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।

শেষদিকে পিটার সিডল ১৩ রানে অপরাজিত থেকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও অপর প্রান্তে সঙ্গীর অভাবে ৭৯ রানেই থেমে যায় সান ফ্রান্সিসকোর ইনিংস। ফলে মাত্র ছয় রানের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় গায়ানা।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছে গায়ানা। কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে আগে ব্যাট করে মাত্র ৮৫ রান তুলেও এর আগে কোনো দল শিরোপা জিততে পারেনি। শুধু তাই নয়, ফাইনালে ১০০ রানের নিচে অলআউট হয়ে জয় পাওয়ার ঘটনাও এটিই প্রথম।

এর আগে, এই রেকর্ড ছিল সিডনি সিক্সার্সের দখলে। তারা ২০২০ সালে বিগ ব্যাশের ফাইনালে ১১৬ রান করেও শিরোপা জিতেছিল। সেই রেকর্ড ভেঙে এবার অসম্ভবকে সম্ভব করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» আপনার দলের লোকেরাই আপনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চায় না: কর্নেল অলি

» জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

» ২৪ ঘণ্টায় ৪১৮ জন গ্রেফতার, মামলা ৬৫

» রোমান্টিক ছবির সঙ্গে দেব-শুভশ্রীর বিশেষ বার্তা

» ছাত্রদলের সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি শিক্ষাঙ্গণগুলোতে চলতে পারে না : মামুনুল হক

» হাসিনা যে ভুল করেছে, আপনারা আবার সেই ভুল করছেন : মঞ্জু

» ‘আরেকটি বিপ্লব আসন্ন’, দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের

» সংঘাতের রাজনীতি নয়, শান্তির বাংলাদেশ চাই: আজহারী

» তারেক রহমান ক্ষমতায় থাকবেন না, পতন শুরু হয়ে গেছে, বললেন পাটওয়ারী

» ৫ আগস্ট গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অবিস্মরণীয় মাইলফলক, বললেন প্রধানমন্ত্রী

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

টি-টোয়েন্টিতে অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড গড়ে মাত্র ৮৫ রানে চ্যাম্পিয়ন গায়ানা

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ক্রিকেটে ৮৫ রানে অলআউট হওয়া মানেই প্রায় নিশ্চিত হার। কিন্তু সেই ধারণাই বদলে দিল গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। গ্লোবাল সুপার লিগের ফাইনালে আগে ব্যাট করে মাত্র ৮৫ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পরও দুর্দান্ত বোলিংয়ে সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসকে ৭৯ রানে অলআউট করে শিরোপা জিতে নিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে গড়েছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড।

ফাইনালে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে গায়ানা। ইনিংসের নবম ওভারের আগেই ৮ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে জমা হয় মাত্র ২৯ রান। দলের শীর্ষ ব্যাটার জনসন চার্লস, শিমরন হেটমায়ার, রহমানউল্লাহ গুরবাজ, মোহাম্মদ নবী ও মোহাম্মদ হারিস কেউই দায়িত্বশীল ইনিংস খেলতে পারেননি।

প্রতিপক্ষের হয়ে অসাধারণ বোলিং করেন পিটার সিডল। চার ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে তিন উইকেট শিকার করে গায়ানার ব্যাটিং লাইনআপকে ছিন্নভিন্ন করে দেন তিনি। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচ তখন একতরফা হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতই দিচ্ছিল।

তবে ইনিংসের শেষদিকে লড়াই করেন নিচের সারির ব্যাটাররা। ডোয়েন প্রিটোরিয়াস করেন ১৭ রান, ম্যাথিউ ফোর্ড খেলেন ২৮ রানের মূল্যবান ইনিংস এবং ইমরান তাহির যোগ করেন ১১ রান। তাদের চেষ্টাতেই কোনোমতে ৮৫ রানে পৌঁছায় গায়ানা।

সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা মোটামুটি ভালোই ছিল সান ফ্রান্সিসকোর। তরুণ অস্ট্রেলীয় ব্যাটার অলিভার পিকের ৩১ রানে দলটি জয়ের দিকেই এগোচ্ছিল। একসময় তিন উইকেটে ৫০ রান তুলে ফেলেছিল তারা।

কিন্তু সেখান থেকেই নাটকীয়ভাবে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৩ রান থেকে মাত্র ৫৮ রানের মধ্যে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ধসে পড়ে সান ফ্রান্সিসকোর ব্যাটিং। গায়ানার হয়ে মোহাম্মদ নবী নেন তিনটি এবং ইমরান তাহির শিকার করেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।

শেষদিকে পিটার সিডল ১৩ রানে অপরাজিত থেকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও অপর প্রান্তে সঙ্গীর অভাবে ৭৯ রানেই থেমে যায় সান ফ্রান্সিসকোর ইনিংস। ফলে মাত্র ছয় রানের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় গায়ানা।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছে গায়ানা। কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে আগে ব্যাট করে মাত্র ৮৫ রান তুলেও এর আগে কোনো দল শিরোপা জিততে পারেনি। শুধু তাই নয়, ফাইনালে ১০০ রানের নিচে অলআউট হয়ে জয় পাওয়ার ঘটনাও এটিই প্রথম।

এর আগে, এই রেকর্ড ছিল সিডনি সিক্সার্সের দখলে। তারা ২০২০ সালে বিগ ব্যাশের ফাইনালে ১১৬ রান করেও শিরোপা জিতেছিল। সেই রেকর্ড ভেঙে এবার অসম্ভবকে সম্ভব করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com